ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে যশোর জেলা যুবলীগের ১৪ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির জোয়াল

হতাশ নতুন পদপ্রত্যাশীরা  

১১৫

প্রতীক চৌধুরী : যশোর জেলা যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক এখন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাঁধে ১৪ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির জোয়াল। ১৭ বছরেও যুবলীগের সম্মেলন না হওয়ায় নতুন পদপ্রত্যাশীদের হতাশা বাড়ছে দিন দিন। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে, সেটিও নিশ্চিত নয় কেউ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৯ জুলাই যশোর জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীকে সভাপতি ও জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির মেয়াদ ছিল তিন বছর। সেই হিসেবে ২০০৬ সালের জুলাই মাসে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রায় ১৪ বছরেও সম্মেলন হয়নি। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুকে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার সময় বলেছিলেন, যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগের শর্তে তাদেরকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হলো। এমন ঘোষণার পর গঠনতন্ত্রের আলোকে জেলা যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি  সৈয়দ মুনির হোসেন টগর ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম রফিক ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেয়েছেন। তারা নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও দেখা করেছেন। যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের  নিয়ে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের মধ্যে চলছে নানা সমীকরণ। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সম্পাদক দুজনই যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী। ফলে জেলা যুবলীগে নেতৃত্বে আসতে মরিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের অনুসারীরা। দুই পক্ষের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর থাকলেও সম্মেলন নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও আশার আলো নেই যশোর জেলা যুবলীগের সম্মেলনে। ফলে নতুন নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের দাবি, দীর্ঘদিনেও সম্মেলন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে না। পদপ্রত্যাশী রাজপথের নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হোক।

এ প্রসঙ্গে জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, সভাপতি-সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। এজন্য দুটি পদ শূন্য হয়। ফলে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছি আমরা। আপাতত সম্মেলনের কোনো বার্তা আমাদের কাছে নেই। এবছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি রয়েছে। এজন্য এই বছর সম্মেলনের সম্ভাবনা নেই।

মন্তব্য
Loading...