যশোর শিক্ষাবোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে নীতিমালা উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো টাকা আদায়

২৭৯

দেবু মল্লিক : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে আছে একটি ম্যানেজিং কমিটি। যুগ্মসচিব পদমর্যাদার যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ওই কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি। অথচ সেই যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরকারি নীতিমালা মানার কোনো বালাই নেই। প্রতিষ্ঠানটি বছরের শুরুতে বরাবরের মতো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ভর্তি ফি, মাসিক বেতন আর সেশন চার্জ আদায় করছে। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা নীতিমালায় নির্ধারণ করে দেয়া টাকার তিন থেকে চারগুণ বেশি।

যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়। একইবছর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে পাঠানো হয়। আর ২০১৯ সালের ১৯ মে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্মীকরণের ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে এখনো যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারিকরণ হননি। এজন্য তারা সরকারিকরণের সুবিধা পাচ্ছেন না। তাই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হলেও আগের নিয়মে চলছে।

আগের নিয়মে পরিচালিত হলেও ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নীতিমালাটি মেনে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থী ভর্তি, মাসিক বেতন ও সেশন চার্জ নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতিমালার কোনো প্রয়োগ এই কলেজটিতে নেই। নীতিমালার বিধান মেনে জেলা শহরে ভর্তি ও সেশন চার্জের জন্য সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির সময় একমাসের বেতনসহ নেয়া হচ্ছে ৬ হাজার ৪৭০ টাকা। জানুয়ারি মাসের বেতন ৮শ’ টাকাসহ খাত দেখানো হয়েছে টিউশন ফি, কম্পিউটার ল্যাব, সাইন্স ল্যাব, ডায়েরি, কমনরুম, ম্যাগাজিন, কালচার, মিলাদ/পূজা, বিএনসিসি, বিদ্যুৎ, মেডিকেল, বাগান, ডিজিটাল ক্লাস রুমসহ ২৫টি খাতে এই টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ৬ হাজার ৭৭০ টাকা, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ৭ হাজার ৯৭০ টাকা এবং বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগে ভর্তির সময় একমাসের বেতন ৯শ’ টাকাসহ নেয়া হচ্ছে ৭ হাজার ৪৭০ টাকা।

এব্যাপারে যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল গোলাম মোস্তফা বলেন, নতুন করে কোনো ফি বাড়ানো হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্মীকরণ চূড়ান্ত না হওয়ায় আগের নিয়মে চলছে। এই বেতন, সেশন চার্জ নেয়ার পরও প্রতিবছর কলেজটির প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা ঘাটতি থাকছে। মন্ত্রণালয় এসব অবগত আছে।

কলেজের অনারবোর্ডে পদাধিকার বলে সভাপতি হিসেবে নাম রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনের। তবে তিনি গত ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যান। এজন্য তার সাথে এব্যাপারে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অনেক ব্যয়। শিক্ষাবোর্ড প্রতিবছর এক কোটি ৪০ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে। সরকার প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করায় আমাদের জন্য ভালো হয়েছে।

ভর্তির নীতিমালা সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কমিটিতে আমি প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করছি। তবে কোনো সভায় নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়নি।

মন্তব্য
Loading...