‘এসআই মনিরুজ্জামান আমার মেয়েকে বাঁচতে দিলো না’

ঝিকরগাছায় রাবেয়া খাতুন তুলির আত্মহত্যা

১০২

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছার পুলিশ কর্মকর্তা (উপপরিদর্শক) স্বামীর নির্যাতনে রাবেয়া খাতুন তুলি (২৪) নামে গৃহবধূর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে ঝিকরগাছার খরুষা গ্রামের বাবার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের প্রবাসী আজিজুর রহমান জিন্টুর মেয়ে। তার স্বামী মনিরুজ্জামান পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে সাতক্ষীরা সদর ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন। এই দম্পতির সাত বছরের একটি মেয়ে আছে। রোববার যশোর জেনারেল হাসপাতালে রাবেয়া খাতুন তুলির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
তুলির মা সালমা বেগম বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে মামলা করবো। এসআই মনিরুজ্জামান আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিলো না। মনিরুজ্জামান সাতক্ষীরা সদর ফাঁড়িতে চাকরি করে। শনিবার তুলি আমাদের বাড়ি থেকে ওর স্বামীর কাছে সাতক্ষীরা সদর ফাঁড়িতে যায়। সেখানে গেলে তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। মেয়ে ঐশীকে তার কাছে রেখে দেয়। তুলিকে সে জানিয়ে দেয় তার সাথে আর সংসার করবে না। অভিমান করে তুলি সাতক্ষীরা থেকে যশোরে চলে আসে। সেখানে এসআই মনিরুজ্জামানের বোন মুক্তার বাড়িতে রাতে ওঠে। তারপরে সেখান থেকে মনিরুজ্জামান তাকে সাথে করে আমাদের বাড়িতে রেখে যায়। জানিয়ে দেয় মরে গেলেও কোনো প্রকার যোগাযোগ যেন তার সাথে না করা হয়। মনিরুজ্জামান আমার মেয়েকে বাঁচতে দিলো না। আমরা তার বিচার চাই।
তুলির ভাই আব্দুল আহাদ অপু বলেন, বিয়ের সময় আলমারি, শোকেস, খাটসহ অন্যান্য আসবাবপত্র দেয়া হয়। বিয়ের সময় যৌতুক দেয়ার কথা ছিল না। কিন্তু বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে টাকা চাইতো, টাকার জন্য আমার আপুকে নির্যাতন করতো। শুধু মনিরুজ্জামান নয় আপুর ওপর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতো। শনিবার রাতেও আমার বোনকে অপমান করা হয়। সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে শার্শা উপজেলার বড়বাড়ীয়া গ্রামের মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তুলির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তুলির ওপর নির্যাতন শুরু করেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শনিবার রাতে বাবার বাড়িতে ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তুলি। জানতে পেরে পরিবাবের লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাজল মল্লিক বলেন, হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।

মন্তব্য
Loading...