সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটার তুষার ইমরান- আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছিল

২১৫

এম এ রাজা
বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক আক্ষেপের নাম তুষার ইমরান। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড়ে চড়ে আছে। তবু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তুষার ইমরানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। তবে ৭ বছরে ৫ টেস্ট এবং ৪১ ওয়ানডে ম্যাচে থেমেছে সেই ক্যারিয়ার। ২০০৭ সালের পর ফিরতে পারেননি জাতীয় দলে। এখন নিয়মিত পারফর্ম করছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। এ বছর প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে করেছেন ১০ হাজার রান। ৩৫ বছর বয়সে এখনো স্বপ্ন দেখেন টেস্ট খেলার। প্রিয়-অপ্রিয় অনেক কথা হয়েছে প্রতিদিনের কথা’র ক্রীড়া প্রতিবেদক এম এ রাজার সঙ্গে। তুলে ধরা হলো চুম্বক অংশ :
গত মৌসুমে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ১০ হাজার রান করেছেন। বিষয়টা নিশ্চয়ই বেশ সুখের?
– এটা ৫-৬ মাস হয়ে গেছে। এখন আর ওই মজাটা পাই না। সামনে অনেক লক্ষ্য আছে ১১ হাজার, ১২ হাজার যতদূর যাওয়া যায়। ওইটা নিয়ে এখন আর চিন্তাভাবনা করি না। মাঝেসাঝে অনেকে বলে আপনিই করেছেন। সামনে কেউ পারবে কিনা। তবে আমার বিশ্বাস দুই তিন আছে যারা ১০ হাজারের কাছাকাছি। তারাও পূরণ করবে একদিন।
এখনো জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখেন?
– সত্যি কথা বলতে গেলে আমি সবসময় স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি বলেই এখনো খেলে যাচ্ছি। ইচ্ছাটাও আছে কাম ব্যাক করব কোনো এক সময়। এই বছর না হোক সামনের বছর। আমার ইচ্ছা আছে মূলত টেস্ট ম্যাচে কামব্যাক করা। যদিও টেস্টে আমার রেকর্ড খুব বাজে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘এ’ দলের সিরিজে ডাক পেলেন। বিষয়টা জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নকে আরও ত্বরান্বিত করেছে নিশ্চয়ই?
– দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পারফর্ম করি বলে ডাকতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও বয়সের কারণে না ডাকার চান্স ছিল। তারপরও দলে ডাকায় নির্বাচক, বোর্ড কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই, পারফর্ম করলেই যেকোনো সময় দলে ডাক পাব সেটা প্রমাণ হয়েছে। যদিও আমার একটু লেট হয়ে গেছে।
মাত্র ৫ টেস্ট ও ৪১ ওয়ানডেতে আপনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ …
– নিজেরই অনেক ভুলত্রুটি ছিল। শুধরানোর চেষ্টা করেছি তবে অনেক ভালো ভালো ক্রিকেটার চলে আসছে জাতীয় দলে। ওদের বিট করা সম্ভব হয়নি। ওরাও নিয়মিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছে। আমি চেষ্টা করেছি ভালো পারফর্ম করে সুযোগ পেলে সেই সুযোগটা কাজে লাগানোর।
অস্টেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে আপনার কিছুট অবদান ছিল। সেই ম্যাচের কোনো স্মৃতি মনে আছে?
– মনে তো থাকবেই! ওই সময় অস্ট্রেলিয়া টিমে সবাই ছিল। আসলে সে সময় নিজেদের প্রতি ওই বিশ্বাসটা ছিল না যে বিশ্বের এক নম্বর দলের সাথে আমরা জিতব। এতটুকু বিশ্বাস করতাম আমাদের হারানোর কিছু নেই। এখান থেকে পাওয়ার অনেক কিছু আছে। ছোট ছোট অবদান থেকে বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছে আমরা ম্যাচটা জিততে পারি। আশরাফুল অসাধারণ ইনিংস খেলল। সত্যি কথা বলতে ওরা টস জিতে ফিল্ডি করছিল। আমরা যদি ওই উইকেটে আগে ব্যাটিং করতাম, মে বি আমরা ১৩০-১৫০-এর মধ্যে অল আউট হয়ে যেতাম। ওদের বোলিং অ্যাটাক ভালো ছিল, পিচে ময়েশ্চার ছিল। ওই চ্যালেঞ্জটা ওরা নিয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট একটু সহজ হয়ে গিয়েছিল।
২০০৭ বিশ্বকাপের আগে দলে নিয়মিত ছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের দল থেকে শেষ মুহূর্তে ছিটকে পড়েন, বিষয়টা ব্যাখ্যা করবেন?
– ২০০৭ সালে একটা অবিচার তো হয়েছেই। কিন্তু কোড অফ কন্ডাক্টের খাতিরে অনেককিছু বলার নেই। বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগের সিরিজে ৪-৫ ওপেনার নেয়া হয়েছিল। কি দিয়ে কি হয়েছিল তা আমি বলতে চাই না। তারপর থেকে আমি একটু ডাউন। পরে হয়তো একটা সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু ওয়ার্ল্ড কাপ তো ওয়ার্ল্ডকাপই।
অবসরে কী করবেন ?
– কোচিং লেবেলে থাকার ইচ্ছা আছে। বোর্ড যদি চায় কোনো জায়গায় কাজে লাগাতে, তাহলে করব।
আপনি যখন ক্রিকেট শুরু করেছেন, তখন যশোরের ক্রিকেটার ছাড়া খুলনা বিভাগীয় টিম হতো না। এখন আর সেই অবস্থা নেই। এটা কেন হলো বলে মনে হয় আপনার?
– যখন আমি শুরু করি যশোরে তখন অনেক বড় বড় ক্রিকেটার ছিল। খায়রুজ্জামান বাবু, রোম ভাই, বিপ্লব, ঝড়ু ভাই অনেকেই ছিল। সবাই কম বেশি ভালো ক্রিকেট খেলতাম। জাতীয় লিগে ৫-৬ জন থাকতাম। পরে সৈয়দ রাসেল আসলো। কিছুদিন মুরাদ খান খেলেছে। এরপর থেকে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। মাঝে নিয়মিত লিগ না হওয়ার কারণে মূলত এটা হয়েছে।
এর থেকে উত্তরণ কীভাবে হবে?
– আসলে যশোর প্লেয়ার অনেক, কিন্তু কোয়ালিটি প্লেয়ারের অভাব। প্লেয়ার হতে গেলে গড গিফটেডেড অনেককিছু লাগে। আর নিজে চেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন না একদিন ফল পাবেই। বর্তমানে আমাদের যশোর ক্রিকেটে অনেকেই ভালো খেলে, কিন্তু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন খুব কম প্লেয়ার খেলে। ঢাকা প্রথম বিভাগে বর্তমানে ৭-৮ জন খেলছে। ঝিকরগাছার বাশার (মোস্তাফিজুর রহমান) ছিল, ও প্রিমিয়ার ডিভিশন খেলতে ইচ্ছুক না। পরবর্তীতে যারা আছে যেমন মঈনুল ইসলাম, টিপু সুলতান, রাজু (আব্দুল্লাহ আল মামুন) আছে। আমার কাছে মনে হয় ওরা যদি লেগে থাকে নিয়মিত কষ্ট করে তাহলে হয়তো ভালো একটা পর্যায় যেতে পারবে।

মন্তব্য
Loading...