ইটের গুড়া, সিলেটস্যান বালি ও চুন দিয়ে তৈরি হয় সার

২২৬

রিপন হোসেন :
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য! ইটেরগুড়া, সিলেটস্যান বালি ও চুন দিয়েও নাকি সার তৈরি হয়। তাও আবার নামিদামি কোম্পানির সুফলা হেপ্টা জিংক, মনোজিংক, সূর্যমুখী জিংক গোল্ড, দানাদার কীটনাশক ফুরাডান, আমেরিকান জিংক গোল্ড, আমেরিকান জিংক প্লাসসহ হরেক রকম সার। আর এমন সার কারখানার আবিষ্কার হয়েছে যশোরে। মঙ্গলবার যশোর সদর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের হোসেন আলীর কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এ কারখানার সন্ধান পায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলাম জানান, ভেজাল সার তৈরি হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সেখানে ইটের গুড়া, সিলেটস্যান বালি ও চুনসহ বিভিন্ন কেমিকেল দিয়ে তৈরি করা হয় সার। তারপর সেই সার ঢাকার বিভিন্ন নামি দামি কোম্পানির প্যাকেটে ভরা হয়। সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির লেভেল, মনোগ্রাম ও লেখা নকল করে বাজারজাত করছেন অনেকে। শুধু তাই নয় এখানকার কারখানাগুলোতে নেই কোনো ল্যাব। যা দিয়ে সারের গুণগত মান পরীক্ষা করা যায়। তিনি আরো জানান, অভিযানের সময় কারখানার শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। কারখানার মালিক হোসেন আলীকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই কারখানার মালামাল জব্দ করা হয়। সেইসাথে উৎপাদিত ভেজাল সার ধ্বংস করা হয় ও কারখানা সিলগালা করা হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার চক্রবর্তী, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্ল্যাহ প্রমুখ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরে বেশ কয়েকটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল সার। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সার যশোরসহ পাশ্ববর্তী এলাকা এমনকি দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে দু’একটা ছোট কারখানায় অভিযান পরিচালনা করলেও বড় বড় কারখানাগুলো থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে।
যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের জাহাঙ্গির আলম বলেন, এখন জমিতে সার দিলে কোনো কাজ হয় না। জমির আরো ক্ষতি হয়। অনেক সময় দেখি সার জমাট বেঁধে যায়। কোনো ঝাঁজ থাকে না। ঘোপ গ্রামের আবু হুরাইরা বলেন, আমরা জমি যখন চাষ করতে শুরু করি তখন প্রথম অবস্থা ইউরিয়া, ফসফেট, পটাশ এই তিনটি সার দিয়ে জমি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ফসল ভালো পাওয়ার জন্য ড্যাপ, দস্তাসহ বিভিন্ন নামিদামি ব্যান্ডের সার ব্যবহার করি। কিন্তু তাতে ফসলের কোনো কাজ হয় না। তার পরিবর্তে আরো ক্ষতি হয়।
নোঙ্গরপুর গ্রামের আজিজুর রহমান বলেন, সব সার এখন ভেজাল হয়ে গেছে। দস্তা সারে পাওয়া যায় বালি। আর ড্যাবে পাওয়া যায় পাথর। এগুলোর জন্য আমাদের জমি আরো বেশি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফসল কম উৎপাদন হচ্ছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন বলেন, এ জেলায় মাত্র একটি সার কারখানার লাইসেন্স রয়েছে। বাকি যে কারখানাগুলো রয়েছে তা অবৈধ। এগুলোর বিরুদ্ধে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য
Loading...