ইউপি চেয়ারম্যান পলাশ হত্যা হয়রানিমূলক আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

১৭০

লোহাগড়া প্রতিনিধি :
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ হত্যাকান্ডের ঘটনায় হয়রানিমূলক আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল করিম মুন, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুন্সি আলাউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, যুগ্ম-সম্পাদক সিহানুক রহমান, লোহাগড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি স. ম ওহিদুর রহমান, জাতীয় শ্রমিকলীগ লোহাগড়া পৌর শাখার আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিন্টু, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি মোজাম খান, ছাত্রলীগ লোহাগড়া সরকারি কলেজ শাখার যুগ্ম-সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক প্রমুখ।
পরে লোহাগড়া পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স. ম ওহিদুর রহমান বলেন, পলাশ হত্যাকান্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আমাদের আসামি করা হয়েছে। যার প্রমাণ হিসেবে তিন জনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধী রেকর্ড হয়েছে। কুমড়ি গ্রামের সৈয়দ আল আমিন, শান্ত শেখ, সৈয়দ রোমান আলী এবং গোপীনাথপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া সরাসরি পলাশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে গত ২৫ মার্চ লোহাগড়া আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন বড়ালের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে স্বীকার করেছে। লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, হয়রানি করার জন্য আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। মিথ্যা মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে ১৫টি পরিবারের। এ হত্যাকান্ডে জড়িত প্রকৃত খুনিদের নামে চার্জশিট দেয়ার দাবি জানান তিনি। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল করিম মুন বলেন, পলাশ হত্যাকান্ডের ন্যায়নিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আসামিরা মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চায়। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামান বলেন, নিহত পলাশসহ তার ভাইদের নামে কুমড়ি গ্রামে ইলিয়াস হত্যা, তনু ফকির হত্যা, বজলার শিকদার হত্যাসহ ১২ থেকে ১৩টি মামলা বিচারাধীন আছে। সেইসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন পলাশকে হত্যা করেছে বলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধীতে স্বীকারও করেছে। কিন্তু সেই দায় নিরীহ কিছু মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুর্বৃত্তরা লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক লতিফুর রহমান পলাশকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি নিহত পলাশের ভাই সাইফুর রহমান হিলু বাদী হয়ে ১৫ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলার বাদী সাইফুর রহমান হিলু বলেন, এজাহারে উল্লেখিত আসামিরাই আমার ভাই পলাশকে হত্যা করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, পলাশ হত্যা মামলটি অধিকতর তদন্ত শেষে চার্জশিট দেয়া হবে।

মন্তব্য
Loading...